• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

খেলার সঙ্গী যখন সাপ!

Snakeসিসি নিউজ: নয় দশ বছরের বাচ্চারা সাধারণতঃ বিষাক্ত সরীসৃপদের গল্প শুনলেই ভয়ে কেঁপে ওঠে। অনেকে তো আবার আরশোলার মতো নিরীহ পোকা দেখলেও ভয়ে কাঁদতে শুরু করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ক্রিস্টা গুরাইনোর কথা আলাদা। মাত্র নয় বছর বয়সেই পাক্কা  সর্প বিশারদ হয়ে ওঠেছে সে। ও সে যেভাবে বিষাক্ত সরীসৃপদের নাড়াচাড়া করে তা দেখলে জাত বেদিনীরাও লজ্জায় মুখ লুকাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিগান অঙ্গরাজ্যে তাদের নিজ বাড়িতে রয়েছে বিষাক্ত সরীসৃপদের আস্ত একখানা আস্তানা। সেখানে রয়েছে এনাকোন্ডা এবং অজগরসহ ৩০টির মতো বিভিন্ন জাতের ভয়ঙ্কর সাপ। এদের কোন কোনটির আকার ওর দ্বিগুণ। সেখানকার একটা অজগরের দৈর্ঘ্য ১২ ফুট ।
এসব আজব জীবদের মধ্যেই চলে ক্রিস্টার খাওয়া, শোওয়া আর খেলাধুলাসহ যাবতীয় প্রাত্যাহিত কর্মকাণ্ড। মাত্র দু বছর বয়স থেকেই সাপদের সঙ্গে খেলাধূলা করে বেড়ে ওঠেছে সে। দু একবার যে ওকে সাপ কামড়ায়নি এমন নয়। কিন্তু সাপের দংশনে দমে যাওয়ার পাত্রী সে নয়! করেছে। সে বলে,‘আমি ওদের একটুও ভয় পাইনা। ওরা তো আমার খুব পছন্দের সঙ্গী।’
ক্রিস্টা ওদের ভয় করবে কেন বলুন! তার বাবা জেমি(৩৩) যে একজন সর্প বিশেষজ্ঞ। এমন বাবার সন্তান হয়ে সাপদেরকে ভয় পেলে কী চলে? এদিকে মেয়ের সর্পপ্রেম নিয়ে গর্বের অন্ত নেই বাবা জেমির। সে বলেন,‘ ও ছোটবেলায় কোন শব্দটি প্রথম উচ্চারণ করেছিল জানেন? – সাপ।একেবারে কোলে থাকতেই অদ্ভুত এই জন্তুটির সঙ্গে ওর হৃদ্যতা গড়ে ওঠেছে ক্রিস্টার।আর সে কোনো সাধারণ শিশু নয়।’
জেমি একটুও বাড়িয়ে বলেননি। ক্রিস্টার বন্ধু হলো সাপ। সে ওদের কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আদর করে এবং খেলা করে।
এবারের গ্রীস্মের ছুটিতে ক্রিস্টা ওর বাবার সঙ্গে এ অঞ্চলের রেপটাইল হাউসগুলো ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেছে। শুধু সাপ কেন,  বাবার খামারের কুমিরগুলোর সঙ্গেও ওর রয়েচে দারুন সখ্যতা। সে নিজের হাতে ওদের খাবার দেয়। চলতি সপ্তাহে বাপ বেটি মিলে বিশ্বের সবচেয় বিপজ্জনক বলে পরিচিত রেটলস্নেকদের খোঁজে বের হচ্ছে।
ক্রিস্টার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো ব্যক্তিগত একটি রেপটাইল জু বানানো। মনুষ্য সমাজে সাপদের নিয়ে প্রচলিত ভীতিকর ধারণাটি বদলে দেয়ারও একটি পরিকল্পনা আছে ওর। সে বলে,‘অনেক মানুষ আছে যারা সাপকে ভয় পায় এবং তাদেরকে হত্যা করতে চায়। কিন্তু ওদেরকে ভয় পাওয়ার কি আছে আছে আমি তো বুঝি না। ওরা হলো খুব ঠাণ্ডা আর মজার জীব।’
শুধু সাপদের সাহচর্যে থাকা নয়। এখন সাপদের নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে শিশু ক্রিস্টা। বড় হওয়ার পর নিজের জন্য যে চিড়িয়াখানাটি বানাবে সে, সেখানে পৃথিবীর সব প্রজাতির সাপ রাখার ইচ্ছে আছে ওর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ